দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির ধারাবাহিকতায় আজ বিক্রি করা হচ্ছে ২৬ মে যাত্রার টিকিট। বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাত্রীদের সুবিধার্থে পুরো টিকিট ব্যবস্থা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবার সকাল আটটা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হয়। দুপুর দুইটা থেকে শুরু হয় পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি। একযোগে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে এই দুই ধাপে টিকিট ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের ঈদ বিশেষ ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী আন্তঃনগর ট্রেনের পাঁচ দিনের অগ্রিম টিকিট পর্যায়ক্রমে বিক্রি করা হচ্ছে। এর আগে ২৩ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত যাত্রার টিকিট ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ মে বিক্রি করা হবে ২৭ মে যাত্রার টিকিট। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৮ থেকে ৩০ মে যাত্রার টিকিট বিক্রির তারিখ পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। টিকিট ফেরত বা পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়নি। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোট আসনের একটি অংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট হিসেবে স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে।
ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছরই ট্রেনের টিকিট নিয়ে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রুটে যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অনলাইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেছে যাতে টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় উৎসবকেন্দ্রিক চাপ মোকাবিলায় ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো যেমন বিবিসি এবং আল জাজিরার বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশেও সেই ধারা অনুসরণ করে অনলাইন ভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
তবে যাত্রীদের একটি অংশ এখনো টিকিট সংকট এবং সার্ভার চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে টিকিট প্রকাশের মুহূর্তে উচ্চ চাহিদার কারণে দ্রুত টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন ঈদযাত্রায় টিকিট ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে হলে ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি, সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। তা না হলে প্রতি বছর একই ধরনের চাপ এবং ভোগান্তি পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
