লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আজ শহীদ রাইফার জন্মদিন, এক অসমাপ্ত শৈশব ও নিদারুন আত্মত্যাগের উপাখ্যান

প্রকাশিত: 15 জুন 2026

3 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্ব পুরুড়া গ্রামের ছোট্ট মেয়ে রাইফা। বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান হিসেবে সবার আদর আর ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সে। কিন্তু ২০২৪ সালের ২০ জুলাইয়ের তীব্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ঘাতকের গুলি কেড়ে নেয় রাইফার প্রাণ। সেই হাসিমুখ আজ শুধুই স্মৃতি। আজ শহীদ রাইফার জন্মদিন।

২০১৮ সালের ১৫ জুন জন্ম নেওয়া রাইফা একটি নিম্নআয়ের পরিবারে বেড়ে উঠছিল। তার বাবা মো. বাবুচান ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং মা সেলিনা খাতুন বিভিন্ন শ্রমভিত্তিক কাজে সহায়তা করতেন। নয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হওয়ায় রাইফা ছিল সবার প্রিয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, খেলাধুলা, আঁকাআঁকি এবং ভাইবোনদের সঙ্গে সময় কাটাতেই তার দিন কেটে যেত।

২০২৪ সালের ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো বিশ্বরোড এলাকায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে রাইফা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন শহীদ রাইফার পরিবার।

রাইফার মৃত্যুর পর পরিবারটির জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তার মা সেলিনা খাতুন মেয়ের স্মৃতিতে এখনও ভেঙে পড়েন। বাবা বাবুচানও আগের মতো কাজে ফিরতে পারেননি বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। সংসারের আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে এবং বড় ভাইয়েরা বিভিন্ন অস্থায়ী কাজে যুক্ত থেকে পরিবারের দায়িত্ব বহন করার চেষ্টা করছেন।

প্রতিবেশীরাও রাইফাকে স্মরণ করেন এক প্রাণবন্ত শিশু হিসেবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাড়ার সবার সঙ্গে তার সহজ সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুর পর পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি, কর্মসংস্থান এবং আইনি সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা চান, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

রাইফার গল্প কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকগাথা নয়। এটি এমন এক শিশুর গল্প, যার জীবন শুরু হয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু শেষ হয়ে গেছে অকালেই। রাইফার রক্তের বিনিময়ে আজ দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত, কিন্তু তার স্মৃতি আজও পরিবার, স্বজন এবং প্রতিবেশীদের হৃদয়ে বেঁচে আছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman