দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুদ্ধ, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং ভিসা সংকটের মতো কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে যাচ্ছে ইরান। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই একের পর এক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী এই দলকে। তবুও ফুটবলেই মনোযোগ রাখতে চান ইরানের কোচ Amir Ghalenoei।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দল ফুটবল খেলতে এসেছে, রাজনীতি করতে নয়। মাঠের বাইরের বিতর্ক ও রাজনৈতিক ইস্যু থেকে দূরে থেকে সেরা খেলাটাই উপহার দিতে চান তারা।
সোমবার SoFi Stadium-এ গ্রুপ জি’র ম্যাচে ইরানের প্রতিপক্ষ New Zealand। তবে ম্যাচের আগে ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সাম্প্রতিক সংঘাত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি।
সাম্প্রতিক সময়ে Iran ও United States-এর মধ্যে উত্তেজনা এবং Israel-সংক্রান্ত সামরিক সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ইরান দলের প্রস্তুতিতেও। ভিসা জটিলতার কারণে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প শেষ মুহূর্তে অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় সরিয়ে নিতে হয়। প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য এখনো প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অনুমোদন পাননি বলে জানা গেছে।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে কিছুটা স্বস্তিও পেয়েছে ইরান। চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর দেশটির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে অন্তত যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ চলাকালে প্রবাসী ইরানিদের একটি অংশ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ফলে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তাপ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। তবুও কোচ গালেনোয়ি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার দল দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব ইরানির প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য ফুটবল।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপ ইরানের জন্য কেবল একটি ক্রীড়া আসর নয়। এটি সংকট, যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রতীক। তাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং একটি জাতির মানসিক পুনরুদ্ধারের গল্পও বহন করছে।
