লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

রাজশাহীতে বিচারকের ছেলেকে ছুরিকাঘাতে খুন, স্ত্রীর অবস্থা আশংকাজনক

প্রকাশিত: 13 নভেম্বর 2025

80 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজশাহী নগরীর ডাবতলা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। এই নৃশংস হামলায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্পার্ক ভিউ ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত তাদের ভাড়া ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানায়, হামলাকারী যুবকের নাম লিমন মিয়া এবং সে বিচারক পরিবারের পূর্ব পরিচিত ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বর্তমান তথ্য অনুসারে, লিমন মিয়া বিচারককে ভাই পরিচয় দিয়ে ভবনের দারোয়ান মেসের আলীর কাছ থেকে প্রবেশ অনুমতি নেয়।

দুপুর আড়াইটায় ফ্ল্যাটে প্রবেশের প্রায় ৩০ মিনিট পর অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। চাপাতির কোপে তাওসিফ সুমন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান, তখন তাসমিন নাহারের শরীরেও একাধিক ক্ষত।

ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা চিৎকার শুনে ছুটে এসে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহত সুমনের বয়স ২০ বছর এবং সে নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। বিচারক আব্দুর রহমানের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়, তিনি পরিবার নিয়ে রাজশাহীতে বসবাস করতেন। ঘটনার সময় তিনি আদালতে কর্তব্য পরিচালনা করছিলেন।

হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন, তাসমিন নাহারকে চার নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। তার অবস্থা গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল। হামলাকারী লিমন মিয়াও আহত অবস্থায় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান জানান, আসামিকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান বলেন, ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল কাজ করছে। হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনা রাজশাহীতে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে বিচারব্যবস্থার কর্মকর্তাদের আবাসস্থলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন হামলা প্রায়ই অপ্রত্যাশিত শত্রুতা থেকে উদ্ভূত হয়, যা পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এলাকাবাসীরা দাবি করছেন, ভবনগুলোতে সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত তদন্ত করে সত্য উন্মোচন করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের বিপর্যয় নয়, সমাজে নিরাপত্তাহীনতার সতর্কতা।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman