লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম ভয়াবহ লোডশেডিং এর আশঙ্কা

প্রকাশিত: 04 এপ্রিল 2026

27 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

আসন্ন গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সময়মতো এই অর্থ ছাড় না হলে দেশজুড়ে বড় ধরনের লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১২ টাকা ১৫ পয়সা হলেও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে মাত্র ৭ টাকা ৪ পয়সায়। ফলে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৫ টাকা ২৭ পয়সা লোকসান হচ্ছে, যা ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করতে হচ্ছে সরকারকে।

কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের এই বড় ব্যবধান, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে অতীতে চাহিদার তুলনায় বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদনের ফলে ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা কেন্দ্র ভাড়া বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। গত ১৫ বছরে শুধুমাত্র এই খাতে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ গত ১৬ মার্চ অর্থ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে জানায়, মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এই ভর্তুকি প্রয়োজন। জাতীয় গ্রিডে নতুন যুক্ত হওয়া শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এইচএফও বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ দরকার। শুধু এই তিন প্রকল্পেই প্রয়োজন প্রায় ৮ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

এছাড়া ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির বিল পরিশোধে ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় আরও ৩ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর চাপ দিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এত বড় ভর্তুকি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেইন বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় মূল্য সমন্বয় ছাড়া ভর্তুকির চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

অর্থ বিভাগ থেকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে গ্রীষ্মকালেই ভোক্তাদের বাড়তি লোডশেডিংয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman