লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

শুল্কমুক্ত পণ্য মজুতের অভিযোগে চার গুদাম সিলগালা, গুদাম মালিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্বশুর

প্রকাশিত: 02 অক্টোবর 2026

22 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে কূটনৈতিক সুবিধায় শুল্কমুক্ত পণ্য সংরক্ষণের জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান টস বন্ডের চারটি গুদাম সিলগালা করেছে যৌথ তদন্ত দল। অনুমোদিত গুদামের বাইরে পণ্য সংরক্ষণ এবং শুল্কমুক্ত পণ্য অননুমোদিতভাবে সরিয়ে ফেলা বা বাজারে বিক্রির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই অভিযান চালানো হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টস বন্ড মূলত বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য শুল্কমুক্ত মদ সরবরাহের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখছিল এনবিআর। এর পাশাপাশি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেখানে নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের কানাডার নাগরিকত্ব এবং অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা দেশের কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, টস বন্ড কূটনীতিক ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য শুল্কমুক্ত পণ্য সরবরাহকারী অনুমোদিত গুদামগুলোর একটি। সরকারি কাস্টমস নথিতেও প্রতিষ্ঠানটিকে কূটনৈতিক ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শুল্কমুক্ত পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

অভিযানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির নথিতে অনুমোদিত দুটি গুদামের বাইরে আরও দুটি গুদামে পণ্য সংরক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা পণ্য অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হলে তা খোলাবাজারে বিক্রি হতে পারে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি শুল্ক ও আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার লঙ্ঘন হতে পারে। তবে অভিযানে ঠিক কী পরিমাণ পণ্য পাওয়া গেছে এবং কোনো পণ্য অবৈধভাবে সরানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

টস বন্ডের মালিকানা সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গুদাম সিলগালা করার অভিযানের সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন তথ্য এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন সালমান মুক্তাদিরের ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় থাকা স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। ওই ঘটনায় পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি জমি বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

এর মধ্যেই বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে। সংস্থাটি তার হিসাব খোলার নথি, পরিচয় যাচাইসংক্রান্ত তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে। তবে এমন তথ্য চাওয়াকে কোনো অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। একটি সরকারি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের তথ্য চাওয়া তদন্তের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশও হতে পারে।

অন্যদিকে টস বন্ডের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ আগে থেকেই খতিয়ে দেখা হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়নি।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চারটি গুদামে সংরক্ষিত পণ্যের বৈধতা, অনুমোদিত গুদামের সংখ্যা এবং শুল্কমুক্ত পণ্যের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুতের সামঞ্জস্য যাচাই করা। তদন্ত শেষে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman