দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি বেসরকারি স্কুলে চার বছরের কম বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি এখনো মানসিক ট্রমায় রয়েছে। ঘুমের মধ্যেও চিৎকার করে উঠছে, স্কুলে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। বাবা–মায়ের সঙ্গেও থাকতে চাইছে না। নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে সে এখন নানাবাড়িতে অবস্থান করছে।
ঘটনাটি ঘটে ১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টনের মসজিদ রোডে অবস্থিত শারমিন একাডেমিতে। শিশুটি মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রি-প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। পরে স্কুলের অফিস কক্ষে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার শিশুটিকে চড় মারছেন, গলা ও মুখ চেপে ধরছেন এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। অভিযুক্ত দুজন স্বামী-স্ত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েক জন অভিভাবক বলেন, অবিলম্বে দোষী শিক্ষকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, শিশুর শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরো বলেন এই ঘটনা কোনো মাদ্রাসায় হলে তাদের এতক্ষনে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হতো যা আমরা আগেও দেখেছি, কিন্তু এই ঘটনায় এখনো দোষীদের আটক করতে পারেনি।
নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শিশুটির মা–বাবা বৃহস্পতিবার পল্টন থানায় গিয়ে শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলা করেন। এই ধারায় শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী জানান, ভিডিওতে নির্যাতনের বিষয়টি স্পষ্ট। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, তবে তারা বর্তমানে পলাতক।
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই স্কুলে সন্তান পাঠানো নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ জানিয়েছে, শিশুটির মানসিক পুনর্বাসনে তারা কাজ শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি শিশুদের মানসিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতি করে। এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে শিশু নির্যাতন বন্ধ হবে না।
