দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যানহাটান বীচ এলাকায় অবস্থিত একটি প্রিস্কুলকে ঘিরে ১৯৮০ এর দশকে শুরু হওয়া একটি মামলা আজও দেশটির বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যম ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
ঘটনার কেন্দ্র ছিলম্যাকমার্টিন প্রিস্কুল। ১৯৮৩ সালে এক অভিভাবকের অভিযোগের পর স্কুলটিতে শিশুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত শুরু হয়। এরপর মামলাটি দ্রুত বিস্তৃত হয়ে শত শত অভিযোগে রূপ নেয়, যার মধ্যে শিশুদের সাথে গুরুতর যৌন অপরাধের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এসোসিয়েটেড প্রেস এবং বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে শতাধিক শিশুকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে এই সাক্ষাৎকার পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়, কারণ অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন প্রশ্ন করার ধরন শিশুদের বক্তব্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
মামলার তদন্তে এমন কিছু দাবি উঠে আসে যা আদালত ও বিশেষজ্ঞ মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য শারীরিক প্রমাণ কখনোই নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে তথাকথিত “ডে কেয়ার এবিউস প্যানিক” বা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রকে ঘিরে সামাজিক আতঙ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।
তদন্তের অংশ হিসেবে সাতজন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা প্রায় সাত বছর ধরে চলে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফৌজদারি মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আসামির বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় হয়নি এবং অধিকাংশ অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়।
সিএনএন এর আইন বিষয়ক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সাক্ষাৎকার গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক। অনেক বিশেষজ্ঞ পরবর্তীতে মত দেন যে, শিশুদের সঙ্গে ব্যবহৃত কিছু প্রশ্নপদ্ধতি বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভরযোগ্য ছিল না।
তবে গবেষকদের আরেক অংশ মনে করেন, মামলাটি পুরোপুরি ভুল ছিল না, বরং প্রমাণের অভাব এবং তদন্ত পদ্ধতির দুর্বলতার কারণে তা আদালতে টেকেনি।
ম্যাকমার্টিন কেস দেখায় কীভাবে সামাজিক আতঙ্ক, তদন্ত পদ্ধতি এবং গণমাধ্যমের চাপ একটি ফৌজদারি মামলাকে দীর্ঘ সময় ধরে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি শিশু সাক্ষ্য ও ফরেনসিক সাক্ষাৎকার পদ্ধতির ওপর নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনে।
সূত্র: Associated Press, BBC News, Reuters
