দ্য সিভিলিয়ানস | আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারি পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকলেও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ ছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ সরকার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।
বিক্ষোভ হয়েছে পাকিস্তানের করাচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার, বেলজিয়ামের ব্রাসেলসসহ বিভিন্ন শহরে। এসব বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকের আশঙ্কা, এতে বিশ্ব আবার এক ধরনের নতুন ঔপনিবেশিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে।
পশ্চিমা বিশ্বের বহু মিত্র রাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে দায়সারা বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে নাগরিক ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন।
জাপানে সরকার নীরব থাকলেও বিরোধী সাংবিধানিক গণতন্ত্রী দলের নেতা ইয়োশিহিকো নোদা মার্কিন অভিযানের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শক্তি প্রয়োগ করে স্থিতাবস্থা পরিবর্তন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। জাপানের কমিউনিস্ট পার্টির নেতারাও একই সুরে কথা বলেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই আন্তর্জাতিক মহল সোচ্চার না হলে ভবিষ্যতে অন্য সম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোকেও একই ধরনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
