লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠন করল সরকার

প্রকাশিত: 01 নভেম্বর 2026

5 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

গার্মেন্টস শিল্প খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্য প্রজ্ঞাপনে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কেন গঠন হলো বোর্ড
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর সংশোধিত সংস্করণ অনুযায়ী প্রতি তিন বছরে বিভিন্ন খাতের ন্যূনতম মজুরি পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। গার্মেন্টস খাতের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হয়, যার মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।

সংশোধিত আইনে মজুরি পুনর্মূল্যায়নের ব্যবধান পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে মজুরিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।

বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, খাদ্য, বাসস্থান, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে এই বেতন বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই নয়।

শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকার দাবি
সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকশ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান বেতনে সংসারের মৌলিক চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিআল বাংলাদেশ কাউন্সিল আগেই পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ২৬০ ডলার করার দাবি জানিয়েছিল। সংগঠনটি বলেছে, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় এই দাবি করা হয়েছে।

মালিক ও শ্রমিক পক্ষের অবস্থান
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিরা বৈঠকে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এ ছাড়া শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

বোর্ডের পরবর্তী কাজ
প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সাধারণত মজুরি বোর্ড শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রস্তাব গ্রহণ করে, তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে, জনশ্রুতি নেয় এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ করে।

শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, বোর্ড গঠনের পর তারা বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেবে। তাদের দাবি, নতুন মজুরি কাঠামো জীবনযাত্রার বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlemaç izletaraftarium24canlı maç izlemaç izletaraftarium24canlı maç izlemaç izleselçuk sportsselçuksportsjustin tvnetspor tv