আমদানি খরচ বেশি হওয়ায় সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ানো হলো। এতে কতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্ব তাদের তেলের দাম অ্যাডজাস্ট করেছে। এমনকি আমেরিকাও ৫ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে আমরা এই যুদ্ধ লাগার পর থেকে বাংলাদেশে ইমপোর্ট করে যে স্টক তৈরি করেছি, তার যে দাম পড়েছে, সে দামের থেকে নিচেই আমরা এখন প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট করছি।’
তিনি বলেন, ‘এটা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা। কারণ এটা বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে কিনতে হয় এবং আমরা যেন সহনীয় লেভেলে থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা করেছি।’
দাম বাড়ানোর পর এখনো কত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘ভর্তুকি এখনো আছে। ইফ ইউ ওয়ান্ট অ্যাকুরেট হিসাব, তাহলে আমার মন্ত্রণালয়ে যেয়ে বসে ওখান থেকে হিসাব নিয়ে আসেন।’
জীবনযাত্রায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সার্বিক প্রভাবটা কেমন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দাম বাড়া মানেই বিরূপ প্রভাব পড়া। এই যুদ্ধে শুধু বাংলাদেশ না, সারা পৃথিবীর প্রতি প্রভাব পড়েছে। আমাদের ওপরও সেই প্রভাব আছে।’
আপনারা বলেছিলেন এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবেন না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘বলছিলাম তো, সেটা বললাম তো। বাধ্য হয়েছি আমরা এখন করতে।’
বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করে শনিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। যা আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।
ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বেড়েছে।
