লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

সাজেকে গোলাগুলি, সেনা-পুলিশের পাহারায় ফিরলেন প্রায় ৩ হাজার পর্যটক

প্রকাশিত: 22 অক্টোবর 2026

22 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সাজেকে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পর্যটকবাহী যানবাহনগুলো সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে সকাল ৬টার দিকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সাজেকে পর্যটক প্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত আগের দিনই নেওয়া হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবরোধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
সাজেকের সড়ক অবরোধের পেছনে রয়েছে স্থানীয় দুটি সংগঠনের তিন দফা দাবি। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি সমিতি ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। সংগঠন দুটির নেতারা জানান, প্রশাসনের কাছে উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় তাঁরা আবারও কর্মসূচি শুরু করেছেন।

সংগঠন দুটির অভিযোগ, সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া কোনো পক্ষের দায় নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এর আগে ১১ অক্টোবরও সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ শিথিল থাকায় পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। উৎসবের বিরতি শেষে দাবিগুলো পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে সংগঠন দুটি আবারও অবরোধের ঘোষণা দেয়।

পর্যটন ও স্থানীয় জীবিকায় নতুন উদ্বেগ
সাজেকের পর্যটন কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় হোটেল, কটেজ, রেস্তোরাঁ, যানবাহনচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা সরাসরি জড়িত। নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকলে এসব ব্যবসার আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর আগে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পর্যটন বন্ধের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং অবরোধের পেছনে থাকা বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

সাজেকে গোলাগুলির খবরের স্বাধীন যাচাই, হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না এবং অবরোধ কত দিন চলবে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি এবং জেলা প্রশাসনের নতুন নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে পর্যটনকেন্দ্রটি আবার কবে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman

taraftarium24selcuksportstaraftarium24canlı maç izleselcuksportstaraftarium24canlı maç izletaraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24taraftarium24canlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24canlı maç izletaraftarium24selcuksportscanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçtaraftarium24canlı maç izlecanlı maçcanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izlecanlı maç izletaraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24taraftarium24