লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

মিনাব স্কুলের ১৭৫ শিশু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করেছে ইরান

প্রকাশিত: 31 মার্চ 2026

93 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়ানোর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর দুই কর্মকর্তাকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।

ইরানের দাবি, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস স্পুরুয়েন্স (USS Spruance)–এ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা লেইহ আর. টেইট (Leigh R. Tate) এবং জেফরি ই. ইয়র্ক (Jeffrey E. York) টমাহক ক্রুজ মিসাইল হামলার অনুমোদন দেন, যার ফলে মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবে প্রাথমিক বিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় ১৭৫ জন নিহত হন, যাদের বড় অংশই ছিল শিশু শিক্ষার্থী।

ঘটনাটি ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধ শুরুর দিনেই। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্কুল ভবনে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং ভবনের ছাদ ধসে পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। এটি চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরান এই হামলাকে “যুদ্ধাপরাধ” আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা অভিযুক্ত দুই মার্কিন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মহলকে তাদের “স্মরণে রাখার” আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ স্বীকার করেনি। তবে চলমান মার্কিন সামরিক তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে হামলাটি ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ বা পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের কারণে ঘটতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এমন ভুলও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলতে পারে এবং জবাবদিহি প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং চলমান যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

মিনাব হামলা যুদ্ধের একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হতে পারে। যদি আন্তর্জাতিক তদন্তে মার্কিন দায় নিশ্চিত হয়, তবে যুদ্ধের নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

সূত্র: Al Jazeera

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman