দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করতেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থল আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চেয়ে সীমিত লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযানই এখন বেশি সম্ভাব্য।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৭ হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মেরিন ইউনিট, অ্যাম্ফিবিয়াস যুদ্ধজাহাজ এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী। পাশাপাশি শতাধিক যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান ও রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার অঞ্চলে অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিলেও পূর্ণাঙ্গ দখল অভিযানের জন্য যথেষ্ট নয়।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণে যেখানে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছিল, সেখানে বর্তমানে সম্ভাব্য মোট সেনা সংখ্যা ১৫ থেকে ১৭ হাজারের বেশি নয়। ফলে বড় আকারের স্থল দখল অভিযান এখনো বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
তবে সীমিত অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আলোচনায় থাকা প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে খার্গ দ্বীপ, যেখান দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কিংবা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ ধ্বংস বা জব্দ করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় আছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অভিযান হবে দ্রুত আঘাত ও দ্রুত প্রত্যাহার কৌশলের অংশ। উদ্দেশ্য হবে নৌপথ নিরাপদ রাখা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করা এবং কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন সেনা মাটিতে নামলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং সহযোগী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং সামরিক চাপ ও সীমিত অপারেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা অর্জনের পথেই এগোচ্ছে।
সূত্র: Al Jazeera, Reuters
