দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী “একভাবে বা অন্যভাবে” আবার খুলে দেওয়া হবে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলাচল বন্ধ রাখা সম্ভব হবে না এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক জোট তা নিশ্চিত করবে।
রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান চান, তবে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা সীমিত করতে হবে। তার দাবি, ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। যদিও তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
বর্তমানে কার্যত বন্ধ হয়ে থাকা হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ। এর কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। রুবিও বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললে প্রণালী খুলবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সমন্বয়ে তা চালু করা হবে।
সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ইরান দেখতে চায় যেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির নেতৃত্ব থাকবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।
এদিকে যুদ্ধের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল সেনা পাঠাতে পারে এমন জল্পনা চলছে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার কথাও উঠে এসেছে, তবে ইরান সরাসরি আলোচনার দাবি অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।
সূত্র: Al Jazeera
