দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে নৌ মাইন বসানো শুরু করেছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে প্রণালির বিভিন্ন অংশে সীমিত সংখ্যক মাইন স্থাপন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন মাইন বসানো হলেও ইরানের হাতে এখনো বিপুল সংখ্যক ছোট নৌযান ও মাইন স্থাপন সক্ষমতা রয়েছে। ফলে চাইলে দ্রুত শত শত মাইন বসিয়ে পুরো জলপথ কার্যত অচল করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং নৌবাহিনী যৌথভাবে এই কৌশলগত প্রণালির নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজে মাইন স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে, অন্যথায় কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে ইরানকে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইতোমধ্যে প্রণালির আশপাশে ইরানের একাধিক নৌযান ও মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি উপসাগর অঞ্চলে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরাক ও কুয়েতসহ কয়েকটি বড় উৎপাদনকারী দেশের বিকল্প রুট না থাকায় সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হলে এটি শুধু আঞ্চলিক সংঘাত থাকবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা সৃষ্টি করবে। তেলের বাজারে অস্থিরতা ইতোমধ্যে তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: CNN, Reuters
