দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যকে নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের ফলাফল যেই পক্ষের অনুকূলেই যাক না কেন, সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে উপসাগরীয় দেশগুলোই। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা।
ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিউ লাইনস ম্যাগাজিনের মধ্যপ্রাচ্য সম্পাদক করিম শাহিন বলেন, যুদ্ধ শেষে ইরান যদি টিকে যায় এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে, তবে তারা শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো, অর্থনৈতিক কেন্দ্র, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং জীবনযাত্রার মূল কাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিজয়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যে একক সামরিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে পারে ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন আধিপত্য তৈরি হবে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।
যুদ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে নিরাপত্তা কাঠামোয়। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো। কিন্তু বর্তমান সংঘাত তাদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কি শেষ পর্যন্ত অঞ্চলকে যুদ্ধের কেন্দ্রে পরিণত করেছে কিনা।
হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন ছাড়াও ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী বহু সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল এই পথ দিয়ে গেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা ও হতাহতের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন স্বাধীন তদন্তে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ভুল এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যুদ্ধ নয়; এটি আঞ্চলিক ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই। ফলে যুদ্ধ শেষ হলেও অস্থিতিশীলতা কমার বদলে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগ শুরু হতে পারে।
