দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে আমেরিকান সামরিক হস্তক্ষেপের আশংকায় ইরানের সেনাবাহিনী যৌক্তিকভাবে সতর্কতা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার আশঙ্কায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে।
আইআরজিসি ও ইরানের সামরিক অঙ্গন ইতোমধ্যেই সশস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যস্ত করার প্রক্রিয়ায় আছে। এর মধ্যে রয়েছে পরমাণু স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রাখা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান সম্ভাব্য হামলা, বিশেষ করে বিমান বা ড্রোন হামলা থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রচেষ্টা করছে, বিশেষত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সামরিক সম্পদ মোতায়েন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সরকারি কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন, তবে তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিষয়ে আলোচনা হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, এটি রাজনৈতিক সংকেতও বহন করে। আইআরজিসি ও ইরানের সামরিক শীর্ষ নেতৃত্ব সম্ভাব্য কোনো আক্রমণের সময় তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত থাকছে, যাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।
এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন কূটনৈতিক সমাধান ও সংঘাত রোধে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
