দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও যেতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার সংস্থাটির খাতাম আল আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো জাহাজকে “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আইআরজিসি মুখপাত্র দাবি করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর তেলের দাম নির্ভর করে এবং বর্তমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দায়ী করেন তিনি। তার ভাষায়, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এরই মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এলাকায় তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ওমান উপকূলের কাছে একটি থাই পতাকাবাহী কার্গো জাহাজও রয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, প্রণালী বন্ধ থাকায় আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ বাজার স্থিতিশীল রাখতে সদস্য দেশগুলোর জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)
