দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত থামাতে তিন ধাপের একটি নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে এই প্রস্তাবকে সম্ভাব্য সমাধানের পথ হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসেনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এতে যুদ্ধ বন্ধ থেকে শুরু করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পরমাণু কর্মসূচি পর্যন্ত ধাপে ধাপে আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবের প্রথম ধাপে ইরান সরাসরি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরান ও লেবাননে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে বলা হয়েছে। বিবিসি এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ধাপটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কমতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এপি এবং এএফপি জানিয়েছে, এই প্রণালির নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হলে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
তৃতীয় ধাপে ইরান তার পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে প্রথম দুই ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর। সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখছে।
এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মার্কিন অবস্থান আগের মতোই কঠোর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র অর্জনের সুযোগ না দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পরিবর্তে বিকল্প কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আনাদুলু এজেন্সী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই প্রস্তাব মূলত আন্তর্জাতিক চাপ কমানো এবং কৌশলগতভাবে সময় নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। একই সঙ্গে এটি একটি বাস্তবসম্মত আলোচনার ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।
ইরানের প্রস্তাবটি কৌশলগতভাবে সাজানো এবং ধাপে ধাপে চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটানো না গেলে এই উদ্যোগ বাস্তব ফল দেবে কি না তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: BBC, Reuters, CNN, Al Jazeera
