দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশের লড়াই এখন শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ফাইটার জেটের নয়। রাডার, সিগন্যাল ও ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণই হয়ে উঠেছে যুদ্ধের মূল শক্তি। ঠিক এই অদৃশ্য যুদ্ধের জন্যই জাপান এয়ার সেলফ ডিফেন্স ফোর্সের হাতে ছিল একেবারে ব্যতিক্রমী একটি বিমান কাওয়াসাকি EC-1।
কাওয়াসাকি EC-1 কোনো সাধারণ যুদ্ধবিমান নয়। এটি একটি একমাত্র ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্ম, যা তৈরি করা হয়েছিল কাওয়াসাকি C-1 পরিবহন বিমানকে রূপান্তর করে। জাপানের ইরুমা বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্কোয়াড্রনের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ ও রাডার জ্যামিং বিমান।
দুটি মিতসুবিশি নির্মিত প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি JT8D-M-9 টার্বোফ্যান ইঞ্জিনে চালিত এই বিমানটির সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। তবে এর আসল শক্তি গতিতে নয়, বরং ইলেকট্রনিক সক্ষমতায়। বিমানের কালো ফোলা নাক, লেজের রাডোম এবং ফিউজলাজের একাধিক উঁচু অংশের ভেতরে রয়েছে উন্নত সেন্সর ও অ্যান্টেনা, যা একে সহজেই আলাদা করে চেনায়।
EC-1 এ সংযুক্ত রয়েছে জাপানে নির্মিত XJ ALQ-5 ইলেকট্রনিক কাউন্টারমেজার সিস্টেম এবং তোশিবা ELINT প্রযুক্তি। এই সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে শত্রুপক্ষের রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করা, পাশাপাশি বাস্তব যুদ্ধের মতো পরিবেশে জাপানি পাইলট ও রাডার অপারেটরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
২০২৪ অর্থবছরের শেষে কাওয়াসাকি C-1 বহর পুরোপুরি অবসরে যাওয়ার পথে। সেই সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হয়ে যাচ্ছে EC-1। তবে এর উত্তরসূরি হিসেবে আসছে আরও বড় ও আধুনিক RC-2 বিমান, যা কাওয়াসাকি C-2 প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবুও জাপানের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা গড়ে তোলার পেছনে কাওয়াসাকি EC-1 এর ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
