দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
তীব্র তাপদাহ ও লবণাক্ততার চাপে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পানির সংকট। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় সুপেয় পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে, যা জনজীবনকে চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুকুর, খাল ও নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ থেকেও অনেক জায়গায় পানি উঠছে না। ফলে হাজারো মানুষ প্রতিদিন পানির সন্ধানে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাদামিশ্রিত বা লবণাক্ত পানি ব্যবহার করছেন, যা ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, মোংলা, শরণখোলা, শ্যামনগর ও আশাশুনির বাসিন্দারা। বিশেষ করে নারীদের দুর্ভোগ তীব্র, কারণ পরিবারে পানির দায়িত্ব তাদের ওপরই বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য প্রভাবশালী একটি মহল খাল ও স্লুইস গেট দিয়ে লবণ পানি প্রবেশ করাচ্ছে, যা সুপেয় পানির উৎস ধ্বংস করছে। এতে কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সংকট আরও বাড়ছে।
পানি গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে লবণ পানি ভেতরে ঢুকে পড়ছে। একই সঙ্গে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। গবেষণা সংস্থা অ্যাওসেড এর তথ্যমতে, এই অঞ্চলের প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে আড়াই ফুট নিচে নেমে যায়, ফলে অনেক গভীর নলকূপও অকার্যকর হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলের পানির সংকট এখন আর মৌসুমি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণ নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
