দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
কুরআনে ভাষাগত বৈচিত্র্যকে মহান আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষে মানুষে ভাষার পার্থক্য, জাতি ও বর্ণের ভিন্নতা কোনো বিভাজন নয়; বরং তা স্রষ্টার কুদরতের পরিচয়। কুরআনে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক নবীকে তার নিজ কওমের ভাষায় প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে তারা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে এবং হেদায়েত গ্রহণ করতে পারে।
এ থেকে বোঝা যায়, মাতৃভাষা মানুষের স্বাভাবিক ও আল্লাহপ্রদত্ত অধিকার। কোনো জাতির ভাষা কেড়ে নেওয়া বা দমিয়ে রাখা নিঃসন্দেহে যুলমের শামিল। ইতিহাসে ভাষার অধিকার রক্ষায় সংগ্রামের বহু উদাহরণ রয়েছে, যা মানুষের আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
তবে ভাষার এই মর্যাদাকে কেন্দ্র করে যদি স্রষ্টাকে ভুলে গিয়ে ভাষাভিত্তিক অহংকার, জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ববোধ বা একে পবিত্রতার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করানো হয়, তাহলে তা জাহেলিয়াতের রূপ নিতে পারে। ভাষা সম্মানের বিষয়, কিন্তু উপাসনার নয়। ভাষা পরিচয়ের অংশ, কিন্তু তা মানবতার ঊর্ধ্বে নয়।
সুতরাং ভাষার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে ভাষাকে কেন্দ্র করে বিভাজন, অহংকার বা অন্ধ জাতীয়তাবাদ থেকেও দূরে থাকতে হবে।
অধিকারকে হ্যাঁ বলুন।
জাহেলিয়াতকে না বলুন।
— শাইখুনা মুফতি হারুন ইজহার হাফি.
