দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিকল বাস মেরামতের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের চাপা দিয়েছে দ্রুতগতির একটি লরি। এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কুমিরা রয়েল গেট এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার আরিফুল ইসলাম দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লরির চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শাপলা পরিবহনের একটি বাসে চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন যাত্রীরা। পথে কুমিরা রয়েল গেট এলাকায় পৌঁছালে বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে চালক ও তাঁর সহকারী বাসটি মেরামতের চেষ্টা শুরু করেন।
এ সময় বাসের কয়েকজন যাত্রী নেমে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক তখনই দ্রুতগতির একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁরা হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত চারজনকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের জন্য কাজ করছে পুলিশ। আহত ব্যক্তিদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ মহাসড়কে রাতের বেলায় যানবাহনের চলাচল অব্যাহত থাকে। বিকল যানবাহন মেরামত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রীদের সড়কের পাশে অপেক্ষা করতে হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের সময় নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করা এবং জরুরি সতর্কসংকেত ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে পুলিশের তদন্তের বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে।
