দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সাময়িক স্বস্তির খবর এলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট অনিবার্য। তাই জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ করে নতুন ও বিকল্প দেশ থেকে তেল সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে অস্থিরতা দেখা দেয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে আসছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পুরো মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া রাশিয়া, কাজাখস্তান, নাইজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এগুলো এখনো যথেষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের ওপর এখনো দেশের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি নির্ভরতা রয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ।
সরকারি তথ্য অনুসারে, গত মাসে যুদ্ধের কারণে ৬টি ডিজেলবাহী জাহাজ সময়মতো আসতে না পারায় দেড় লাখ টনের মতো মজুত কমে গেছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি ইতোমধ্যে এমটি নরডিক পলুকস জাহাজে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল ছাড়িয়ে আনার আলোচনা চালাচ্ছে। সৌদি আরবের লোহিত সাগর বন্দর থেকেও আরও এক লাখ টন তেল কেনা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা যেকোনো সময় আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই আমরা এখন নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে নজর দিচ্ছি। উৎস বহুমুখীকরণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।”
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু আমদানি নয়, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং এলএনজি আমদানির বিকল্প পথও খুঁজে বের করতে হবে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) নিজস্ব মজুত দিয়ে উৎপাদন চালু রাখলেও নতুন অপরিশোধিত তেল আসলে উৎপাদন বাড়বে।
এপ্রিল মাসে ডিজেলের চাহিদা মেটাতে স্থানীয় ও আমদানিকৃত তেল মিলিয়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন বাজার তৈরি করতে না পারলে ভবিষ্যতে আবারও সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগে আগামী তিন মাসের অগ্রিম মজুত তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনা না গেলে দেশের অর্থনীতি বারবার ঝুঁকিতে পড়বে।
