লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

জাতীয় নির্বাচন-২০২৬, তুলির বিতর্কিত মন্তব্য কি আত্মঘাতী ?

প্রকাশিত: 16 নভেম্বর 2025

49 Views

The Civilians News

জাতীয় নির্বাচন-২০২৬, তুলির বিতর্কিত মন্তব্য কি আত্মঘাতী ?

নির্বাচন, রাজনীতি ও বিপ্লব উত্তর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার বলে মনে করছি। রাজনীতি কি? সেই বিশদ আলোচনায় যাচ্ছি না তবে রাজনীতি হতে হবে দেশের মানুষের কল্যানে। দেশের বেশীরভাগ মানুষের আশা – আকাঙ্খা, বিশ্বাস, মনস্তত্ব, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। এভাবেই একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ জনগণের ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

বিপ্লব পরবর্তী ফেব্রুয়ারির ২০২৬ জাতীয় নির্বাচন জাতির জন্য বেশ গুরত্বপূর্ন। এবারের নির্বাচন বিগত নির্বাচনগুলোর মতো সহজ হবেনা। কারণ সাধারণ মানুষ দেড়দশক পরে মুক্তি পেয়েছে এবং দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নে নিজেদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন দেখতে চায়।

এই আলোচনা সামনে এগিয়ে নেওয়ার আগে বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক অবস্থান এবং মনস্তত্ব বোঝা জরুরি। দেশের প্রায় ৮০%-৮৫% মানুষ মুসলিম। এদের জীবন যাপনে পরিপূর্ণ ইসলামী ছোঁয়া না থাকলেও কোরআন ও হাদিস বিরোধী বা সাংঘর্ষিক কথা বা মতামত তারা মেনে নিতে একেবারেই প্রস্তুত নন এবং এটাই এই দেশের বাস্তবতা।

এই নির্বাচনে BNP ক্ষমতায় যাবার অন্যতম দাবিদার দলের একটি। জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আগে অবশ্যই সার্বিকভাবে সব দিক বিবেচনা করে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ উল্ল্যেখ করছি। ২০১৪ সালে পবিত্র হজ্জ্ব নিয়ে তির্যক ও কটাক্ষ পূর্ন মন্তব্য করায় আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ দুটোই চলে গিয়েছিল। বলে রাখা ভালো আওয়ামীলীগের মতো ইসলাম বিদ্বেষী দলও জনগণের চাপে বাধ্য হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে BNP সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ভরাডুবি ছিল বেশ লক্ষণীয়। আমার মতো অনেকেই মনে করেন এই ভরাডুবির পিছনে অনেকগুলো কারণের সাথে প্রধান কারণ হলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের ভাষায় প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণা করা। এটা এখন স্পষ্ট যে বিপ্লব পরবর্তী মানুষের মন মগজ আর আগের মতো নেই। তারা কাজ দেখতে চায়, কোনো ধরণের ভারতীয় বা পতিত সরকারের বয়ান গ্রহণ করতে চায় না।

নির্বাচনী আসন ঢাকা – ১৪ থেকে BNP মনোনয়ন দিয়েছে ‘মায়ের ডাক’ খ্যাত সানজিদা ইসলাম তুলিকে। মনোনয়ন পেয়ে গণ সংযোগের সময় তিনি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে নিজেকে নিজেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। উনি ইসলামের মৌলিক বিধি বিধান নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেন। তুলি বলেছেন,  ‘কে তাদের এখতিয়ার দিয়েছে যে, একটা পুরুষের চার বিয়ে করা যাবে। ‘ এনিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশের শতকরা ৫% মানুষও বহু বিবাহ করেননা, কিন্তু বিধানটির প্রতি বেশ সংবেদনশীল, কারণ এটি পবিত্র কোরানে বর্ণিত বিধান। ৮৫% মুসলমানের দেশে নির্বাচনের আগে এরকম ভুল তার এবং তার দল BNP’র ঢাকা – ১৪ আসনে কি  ভরাডুবির কারণ হতে পারে ?  তা সময়ই বলে দেবে।

পরে অবশ্য তুলি তার ফেসবুকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন যে, তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। এতে অবশ্য এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এ ধরণের বক্তব্য আত্মঘাতী। ভোটের রাজনীতি অত্যান্ত জটিল, নিশ্চই প্রতিপক্ষ এটিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। ব্যপারটা নিয়ে এ মুহুর্তে দেশে বেশ তোলপাড়ই হচ্ছে বলা যায়। ওনার রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা দলের জন্য ব্যায়বহুল হতে পারে।

একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আরমান সাহেব নিঃস্বন্দেহে একজন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তিনি নিজে আওয়ামী দুঃশাসন ও নির্যাতনের নির্মম স্বীকার। এছাড়াও তার পারিবারিক পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্বোপরি তার নম্র আচরণের জন্য বেশ জন সমাদৃত। নির্বাচনে বিতর্কিত কর্মকান্ড ছাড়াই আরমান বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ,  প্রতিদ্বদ্ধিতা তীব্র হবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। নির্বাচনের এই সময়ে যে কোনো বেফাঁস মন্তব্য, বলা চলে এক রকম তুরুপের তাস প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার মতো। এখন দেখার পালা তুলির বিতর্কিত মন্তব্য কি আরমানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আবির্ভুত হয় কি না।

মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে কাজ করা নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরেও আলোচনা – সমালোচনা নেহায়েত কম নয়। এটা ঠিক যে, দক্ষ কর্মী অল্পসময়ে যে কাজ করতে পারেন তা অদক্ষদের জন্য একটু বেশি সময় দাবী করে।

আমি মনে করি তুলির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম, BNP’র অভিজ্ঞদের উচিত হবে এমন যে সব প্রার্থী আছেন, যারা অনভিজ্ঞ, তাদের প্রতিটা পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা। দেশের সাধারণ মানুষ এই মুহূর্তে দারুন ভাবে ভারতের আগ্রাসন এবং তাদের দোসর আওয়ামীলীগ বিরোধী অবস্থানে আছে। এসময় কোনো ভুল পদক্ষেপ ভোটের বাজারে নিশ্চই প্রভাব ফেলবে তা বলাই বাহুল্য। দেশের মানুষের মন – মনন ভালো ভাবে উপলব্ধি করে বুঝে শুনে কথা বলা বেশ জরুরি এখন। এরকম বেফাঁস কথা ‘হয়ত ধর্মীয় বিষয়ে BNP কে আওয়ামীলীগের কাতারে এনে দাঁড় করাতে পারে, যাদের দেশের মানুষ এরই মধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।

লেখক –
মোঃ আকতার হোসেন (রুমী)
আইনজীবী, শ্রম আইন বিষয়ক।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman