দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশের কৌশলগত খাতগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।
সেনেগালের রাজধানী ডাকার এ অনুষ্ঠিত ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের ফাঁকে জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই আহ্বান জানান। আনাদুলু এজেন্সী এবং রয়টার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওষুধ শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উৎপাদন খাতের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আইসিটি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব খাতে জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিবিসি নিউজ এর বিশ্লেষণে বলা হয়, জাপান দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশেও মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে জাপানের বিনিয়োগ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলেছে।
বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে পারে।
এছাড়া বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গও উঠে আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই সংকট মোকাবিলায় জাপানের চলমান সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আরও সহায়তা কামনা করেন। UN এর তথ্যমতে, এই সংকট এখনো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন খাতগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি। জাপানের মতো উন্নত অর্থনীতির দেশ যদি এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ায়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
