দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময় হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই উদ্যোগকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের পর এসব দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময় করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক, সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি সহযোগিতা দলিল এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল।
এর আগে পেরদানা পুত্রা ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। লালগালিচা সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার এবং দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা পর্ব সম্পন্ন হয়। পরে দুই নেতা একান্ত বৈঠকে মিলিত হন এবং এরপর প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় সম্প্রসারণ, অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধতার আওতায় আনা, কর্ম অনুমতির নবায়ন এবং দক্ষ জনশক্তি বিনিময়ের বিষয়গুলো।
এ ছাড়া বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বিশেষ করে আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে আরও বিস্তৃত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ প্রবাহ শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় উঠে আসে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা, সেক্টরভিত্তিক সংলাপ অংশীদার হওয়ার আবেদন, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ এবং বহুপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, শ্রমবাজার ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের পথ সুগম করবে।
