দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও কূটনৈতিক কর্মসূচি সম্পন্ন করার পর সোমবার বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের দালিয়ানের পথে রওনা হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। দালিয়ানে পৌঁছে তিনি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে দুই দিনের ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ে যাবেন। সেখানে শুরু হবে তার সরকারি সফরের মূল পর্ব। চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দালিয়ানে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেবেন।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশেষ ভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান। এ সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম এবং উপহাইকমিশনার শাহানারা মলিকাসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জনশক্তি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বৈঠকে হালাল শিল্পের সম্ভাবনা, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হওয়ায় এই সফরের কূটনৈতিক গুরুত্ব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মালয়েশিয়া সফরের পর চীন সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করতে পারে।
