দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে বাড়ায় আবারও চাপে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা স্থগিত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ দশমিক ৪০ ডলারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং রয়টার্স জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কাই এই ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। আল জাজিরা এবং এপি এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান জাহাজ চলাচল নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক জাহাজ চলাচল করত, এখন সেই সংখ্যা অনেক নিচে নেমে এসেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তাবিত কূটনৈতিক উদ্যোগ স্থগিত করা হয়েছে। সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এএফপি এবং আনাদুলু এজেন্সির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে তেলের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে। পরিবহন ব্যয় বাড়ে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে এবং শিল্প উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও বেশি হয়, কারণ এসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতি তীব্র হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সাময়িক বাজার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি কূটনৈতিক সমাধান দ্রুত না আসে, তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: BBC, Reuters, CNN, Al Jazeera, AP, AFP, Anadolu Agency
