দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সাত দশকেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের গভর্নরস বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাচ্ছে পাকিস্তান। আগামী বছরের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত হয়েছে দেশটি।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চীমা যিনি বিশ্বব্যাংকে দেশটির গভর্নর তিনি আগতামী চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছে। ১৯৫৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটি এই পদে ফিরে আসছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এই দায়িত্ব পাকিস্তানকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনায় অবদান রাখার সুযোগ করে দেবে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ সহজতর হবে।
মন্ত্রী আহাদ খান চীমা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। কার্যকর ও পূর্বানুমানযোগ্য উন্নয়ন অর্থায়ন বৃদ্ধি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় উন্নত করা এবং টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি মূলধন সংগ্রহের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আরও সাড়াদায়ক বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বার্ষিক বৈঠক ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলেছে। এতে একশ একানব্বইটি দেশের পনেরো হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক নেতারা বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বৈঠকের সাইডলাইনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট আজায় বাঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। থাই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে এই বৈঠক হয়।
পাকিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাত বিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারিত তহবিল সুবিধা এবং এক দশমিক চার বিলিয়ন ডলারের স্থিতিস্থাপকতা ও টেকসই সুবিধার আওতায় রয়েছে।
এই চেয়ারম্যান পদ মূলত পদ্ধতিগত ও কূটনৈতিক দায়িত্ব বহন করে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের ভোটের ক্ষমতা বা ঋণ কর্মসূচির ওপর কোনো অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায় না। তবে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় দেশটির কূটনৈতিক দৃশ্যমানতা বাড়বে।
১৯৫৩ সালে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত অষ্টম বার্ষিক বৈঠকে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলী এই পদে ছিলেন। তার পর সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি এই দায়িত্ব পায়নি।
আগামী বছর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক বৈঠকে পাকিস্তান সভাপতিত্ব করবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের এই অর্জন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
