দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আল্লামা ইকবাল বৃত্তির আওতায় মাস্টার্সে ভর্তির জন্য নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অর্থসহায়তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন। হাইকমিশন জানিয়েছে, মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অর্থ ছাড়ের পদ্ধতি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। তবে যোগ্যতা অর্জনকারী সব শিক্ষার্থীই সমপরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাবেন।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হাইকমিশন জানায়, মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের অর্থসহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে তা তাদের জানানো হচ্ছে। অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য থাকলেও বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সহায়তার মূল সুবিধায় কোনো বৈষম্য থাকবে না।
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল বৃত্তি একটি পূর্ণ অর্থায়িত উচ্চশিক্ষা কর্মসূচি। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ফি, মাসিক ভাতা, আবাসন ও খাবারের ব্যয়, প্রাথমিকভাবে বসবাসের সহায়তা, যাতায়াত ব্যয় এবং বই ও শিক্ষা উপকরণের খরচ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আওতায় সুযোগ পেতে পারেন।
এই বৃত্তি কর্মসূচি পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান করিডরের অন্যতম প্রধান অংশ। ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মুহাম্মদ ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় পাঁচ বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য দুই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করা।
কর্মসূচির প্রথম ব্যাচে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন জানিয়েছে, এসব শিক্ষার্থী প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, সাইবার নিরাপত্তা ও জীববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ছেন।
দ্বিতীয় ব্যাচের জন্য তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। পাকিস্তান হাইকমিশনের সর্বশেষ তথ্যমতে, তাদের মধ্য থেকে ১২৫ জন স্নাতক, ২২ জন মাস্টার্স এবং ১৪ জন পিএইচডি পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তারা পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।
চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফায় উচ্চশিক্ষা প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ঢাকাসহ কয়েকটি শহরে আয়োজিত এসব কার্যক্রমে পাকিস্তানের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। সেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত এই বৃত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়। স্নাতক পর্যায়ে সাধারণত ১২ বছরের শিক্ষা এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম ফলাফল প্রয়োজন। মাস্টার্সের জন্য ১৬ বছরের শিক্ষা এবং পিএইচডির জন্য ১৮ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নির্ধারিত ফলাফল থাকতে হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে ফিরে কাজ করার শর্তও রয়েছে।
মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের অর্থসহায়তা নিয়ে সাম্প্রতিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, সহায়তার অঙ্কে বৈষম্যের অভিযোগটি অর্থ ছাড়ের পদ্ধতির পার্থক্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।
