দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে কূপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের লোকেশন-সি এলাকায় কূপটি খনন করা হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কূপটির খননকাজে চীনের সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি যুক্ত ছিল। তিতাস ও কামতা গ্যাসক্ষেত্রে মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ খননের বৃহত্তর প্রকল্পের আওতায় এ কূপটি খনন করা হয়।
কূপটির প্রাথমিক পরিকল্পনায় দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা ধরা হয়েছিল। পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কূপটি খননের কাজ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে আরও কয়েকটি কূপ এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির চলমান প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, তিতাস-২৮ কূপের খনন শেষ হওয়ার পর পরীক্ষা ও কূপ প্রস্তুতকরণের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিতাস-৩১সহ গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের কাজও চলছে। তিতাস-৩১ কূপের পরিকল্পিত গভীরতা প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার এবং এর মাধ্যমে নতুন গ্যাস সম্পদের উপস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে।
নতুন কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু এমন সময়ে হলো, যখন দেশে জ্বালানি সরবরাহের ওপর আমদানিনির্ভরতার চাপ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের মজুত কমে আসার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাও বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের আন্তর্জাতিক দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বৈশ্বিক বাজারের এমন অস্থিরতায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ অনুভব করছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ তাপ একক প্রায় ৩০ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি করা গ্যাসের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শিল্প ও বিদ্যুৎ সরবরাহে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোকে জ্বালানি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির তিতাসসহ বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন, পুরোনো কূপের উন্নয়ন এবং গভীর অনুসন্ধানের উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করার উদ্যোগ রয়েছে।
তিতাস-২৮ থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া সামগ্রিক জাতীয় চাহিদার তুলনায় সীমিত হলেও বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতিতে এটি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর চলমান প্রচেষ্টার একটি নতুন সংযোজন। আগামী কয়েক মাসে আরও কয়েকটি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে দেশীয় উৎসের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে।
