দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শনিবার ভোরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে রাজধানীসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য আকাশপথের হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। কিছুক্ষণ পর সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে বিস্ফোরণের শব্দের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোররাত ৩টার কিছু আগে রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী আল খারজ এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফারাসান দ্বীপপুঞ্জেও সতর্কতা জারি করা হয়।
সতর্কবার্তা জারির কিছুক্ষণ পর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকেরা রিয়াদে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়। শুক্রবারও জেদ্দা, তাইফ, খামিস মুশাইত ও আলউলাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে। ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার তাইফে একটি হুতি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার পর এর ধ্বংসাবশেষ একটি এলাকায় পড়ে। এতে একজন ইয়েমেনি নাগরিক নিহত এবং সৌদি ও পাকিস্তানি দুই নাগরিক আহত হন। এর আগে মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোনও সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার হয়েছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যকার এই জলপথ এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
হুতিরা জুলাই থেকে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্য করে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচল কমেছে। রয়টার্সের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর এই প্রণালি দিয়ে ২১টি জাহাজ পার হয়েছে, আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ২৪।
এই সংকটের প্রভাব সৌদি আরবের তেল পরিবহনেও পড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংঘাতের কারণে নৌপথে চাপ বাড়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনেও সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা হয়েছে। ফলে দেশটির তেল রপ্তানির বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা নিয়েও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের মানবিক মূল্যও দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনেই ইয়েমেনে ১ লাখ ৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জুন থেকে পশ্চিম উপকূলের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজার ৮১৮-এ পৌঁছেছে। এ ছাড়া প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পরিষদ।
