দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটিতে ভারতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে দিল্লির কাছে প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ পুনর্বিবেচনা, যুব নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি তথ্য অনুযায়ী হুমায়ুন কবির বর্তমানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয় দেখভাল করছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার প্রশ্নে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইন ও জনগণের সমর্থন রয়েছে। ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। তিনি একই সঙ্গে পানি কূটনীতির ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ ও ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে নেয়। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনসহ বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে আলোচনা হয়ে আসছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল চলতি বছরের আগস্টে জানিয়েছিলেন, অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে পানি সহযোগিতা ও আলোচনা বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
এদিকে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালের চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী চুক্তিটি ৩০ বছরের জন্য করা হয়েছিল এবং ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নির্ধারিত কাঠামোয় দুই দেশ গঙ্গার পানি ভাগ করে আসছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি বা সংশোধিত কাঠামো নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। পানি সম্পদমন্ত্রী শাহিদউদ্দিন চৌধুরী আনী সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ঢাকা পুরোনো চুক্তি শুধু নবায়নের পরিবর্তে নতুন চুক্তি করতে চায় এবং সেখানে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে বন্যা ও কৃষি ক্ষতির বিষয়টিও নতুন কাঠামোয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পানি কূটনীতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগেও বাংলাদেশ সমর্থন জানিয়েছে। চলতি বছরের জুনে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ জাতিসংঘের অধীনে পানি কূটনীতি নিয়ে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের প্রস্তাবে বাংলাদেশের সমর্থন চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখন এ উদ্যোগে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান।
বাংলাদেশ ২০২৫ সালে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাতিসংঘের পানি সনদে যোগ দেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্য দিয়ে ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী প্রবাহিত হয়েছে। ফলে পানি বণ্টন, নদীর প্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক গবেষণাতেও দেখা যাচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশ পানি সহযোগিতায় তথ্য বিনিময়, শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। গঙ্গার পাশাপাশি তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
