দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে ভারতের কার্যকর উদ্যোগ চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও দুই দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য উপায়ে সমাধান করা গেলে জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে তার সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
পানি বণ্টনের প্রশ্নটি দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা। চুক্তির আওতায় প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ফারাক্কায় গঙ্গার পানি নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
অন্যদিকে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে অন্তর্বর্তী চুক্তির বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ভারত সরকারের প্রকাশিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, তিস্তার পানি বণ্টনের অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া ২০১১ সালে চূড়ান্ত হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দুই দেশ অভিন্ন নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নদীর পরিবেশ রক্ষা ও নাব্যতা উন্নয়ন নিয়েও সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তবে এ সম্পর্ককে সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা বাংলাদেশের রয়েছে।
তিনি বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ভারত গুরুত্ব দেয় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশ আগ্রহী।
দীনেশ ত্রিবেদী পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা সংবেদনশীলতা তৈরি হলেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গঙ্গা ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের প্রশ্ন সামনে আসায় আগামী দিনে পানি কূটনীতি দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।
