দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে শেহবাজ শরিফ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকার।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা, এপি ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা আয়োজনের পথ সুগম করা।
এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রায় ২১ ঘণ্টার সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তবে ওই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
তবুও কূটনৈতিক আশাবাদ একেবারে নিভে যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলে সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ‘খুবই বেশি’।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এই আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা ও নৌ অবরোধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এই উদ্যোগকে সমর্থন দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় যুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য পরবর্তী বৈঠকের স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভা বিবেচনায় রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে, সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তার ভূমিকাকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। তবে পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে মৌলিক মতপার্থক্য থাকায় দ্রুত সমাধান আসা কঠিন হতে পারে।
সূত্র: Al Jazeera
