লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: 06 সেপ্টেম্বর 2026

30 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদী সংরক্ষণ, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু নিজেদের জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় রাজধানী ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এসব নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল ও নালা থেকে বর্জ্য অপসারণ, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নৌপথের নাব্যতা ধরে রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভা থেকে এরই মধ্যে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নদী ও জলপথ রক্ষার কাজে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার নদীগুলোর বর্তমান সংকট যে দীর্ঘদিনের তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার গবেষণাতেও উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের চলতি বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার আন্তঃসংযুক্ত জলপথে অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য ও বর্জ্যের বড় অংশ সরাসরি গিয়ে পড়ছে। শিল্পবর্জ্যও নদীদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। সংস্থাটি বৃহত্তর ঢাকার পানি দূষণ কমাতে পয়ঃনিষ্কাশন ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তথ্যেও ঢাকার আশপাশের জলাশয় ও নদীগুলোর মারাত্মক দূষণের চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির এক প্রকল্প প্রতিবেদনে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও টঙ্গী খালসহ বিভিন্ন জলপথে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য প্রবাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক এর আগে ঢাকার নদীগুলোর পরিবেশগত পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, নদীর দূষণ কমানোর পাশাপাশি নৌচলাচল, পানির প্রবাহ এবং নগর ব্যবস্থাপনাকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুস, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকেরাও সভায় অংশ নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী রক্ষার এই উদ্যোগ সফল করতে শুধু বর্জ্য অপসারণ বা খনন যথেষ্ট নয়। শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্যের উৎস বন্ধ করা, অবৈধ দখল রোধ, খালের সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত নজরদারি একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman