দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
সরকারের এ উদ্যোগের আওতায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা বকেয়া অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টে সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ পরিশোধের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যাচাই করা আবেদনগুলোর ভিত্তিতে অর্থ প্রদানের কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার মাধ্যমে।
দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সুবিধাভোগী শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে বরাদ্দের অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ সরাসরি উপকৃত হবেন।
চার বছরের বকেয়া পরিশোধে বড় উদ্যোগ
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। চাকরিজীবন শেষে অবসর নেওয়ার পর প্রাপ্য অর্থ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় অনেক শিক্ষক-কর্মচারী আর্থিক সংকটে পড়েন।
বিশেষ করে অবসর-পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা ব্যয়, পারিবারিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন খরচ সামাল দিতে প্রাপ্য অর্থের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বকেয়া অর্থ আটকে থাকা বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। সরকারের এককালীন এই বরাদ্দের ফলে সেই জট কাটানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান ও তাঁদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সরকারের এই অর্থ ছাড়ের ফলে চার বছর ধরে জমে থাকা বকেয়া সুবিধা পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির পথ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানোর উদ্যোগে সুবিধাভোগীদের অর্থপ্রাপ্তি আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
