দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নামে তিনটি আবাসিক হলের কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরাণ হলের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের তিনটি আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত পাতায় ওই বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞপ্তিতে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে বলে তাঁরা জানান। তবে বিজ্ঞপ্তিটির সত্যতা ও স্বাক্ষরকারীদের বর্তমান অবস্থান স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের তিনটি আবাসিক হলে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য পদপ্রত্যাশীদের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত ঠিকানায় জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গ্রুপে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এরপর এর প্রতিবাদে রাতেই মিছিল বের করে ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি রাহাত জামানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলে নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহন অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনটি আবারও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। আবাসিক হলের কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তিকে তিনি সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ প্রচলিত আইন এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশের প্রতি চ্যালেঞ্জ। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞপ্তিটি কারা প্রকাশ করেছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়েও কোনো স্বাধীন তদন্তের তথ্য প্রকাশ হয়নি।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপনে সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশ্য ও অনলাইন প্রচারণাও পড়ে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম সংক্রান্ত একটি সাম্প্রতিক তথ্যপত্রেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা বলা হয়েছে।
এ অবস্থায় শাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের নামে আবাসিক হল কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিজ্ঞপ্তিটির উৎস এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
