দ্য সিভিলিয়ানস। নিউজ ডেস্ক।
নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার হতে পারে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী শপথ পড়াতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথও অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র বলছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শেষ করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীনই সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অথবা তার মনোনীত ব্যক্তির। সরকারি গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে তিন দিনের মধ্যে শপথ না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।
তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের পর শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে নেই। এ অবস্থায় শপথ অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফলে বিকল্প হিসেবে সিইসির মাধ্যমে শপথ আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আইন বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে শপথের বিধান থাকলেও তা ১২৩(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এবারের নির্বাচন সেই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হয়নি। প্রথম প্রজ্ঞাপনে ১২৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ থাকলেও পরে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে তা বাদ দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদ গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। ফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যান্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ফলাফলের বিবরণী পাওয়ার পর দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। বিলম্বের কোনো কারণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেমন ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে, তেমনি শপথ–সংক্রান্ত বিষয়টিও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।
