দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ সকালে কারাগারের ভ্যান থেকে নেমে মাথা নিচু করে কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলায় তিনি একমাত্র উপস্থিত আসামি, যিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারের রায় শোনেন। রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী মামলার অনেক গোপন ও কালো অধ্যায় উন্মোচন করেছিল।
গত জুলাইয়ের ১০ তারিখ অভিযোগ গঠনের সময়ই মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করে। সেপ্টেম্বরে তাঁর জবানবন্দিতে প্রকাশ পায়, হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পুলিশ হেলিকপ্টার, ড্রোন ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্রজনতার উপর গণহত্যা চালিয়েছে। চাঁনখারপুলে ছয়জনের গুলিবিদ্ধ লাশ, আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় তাঁর ভূমিকা স্পষ্ট হয়।
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, মামুনের সাক্ষ্য ছাড়া এতটা গভীর তথ্য উন্মোচিত হতো না। ৫৪ জন সাক্ষী, অডিও-ভিডিও প্রমাণের পাশাপাশি তাঁর সাক্ষ্য হাসিনাকে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এই মামলায় হাসিনা – কামাল এর ফাঁসি হলেও মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর রাজসাক্ষী হওয়ার ফল। এই রাজসাক্ষী’র ঘটনা ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম, যা ভবিষ্যতের বিচারের জন্য অনন্য নজির স্থাপন করবে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক আকাশে নতুন ঝড় তুলেছে, জুলাই শহীদ ও আহতের পরিবাররা ন্যায়ের বিজয় হয়েছে বলে উল্লেখ করছেন।
