দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন,
“এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল যেন চালু থাকে জজ সাহেব, এখানে একদিন হাসিনারও বিচার হবে।”
তখন অনেকেই এটাকে ক্ষোভের বুলি ভেবেছিলেন। জনাব চৌধুরীকে ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। তার পক্ষের কোনো সাক্ষীকে সরকার ও প্রশাসন আদালতে হাজির হতে দেয়নি বলে অভিযোগ আছে। এ ও অভিযোগ আছে এক প্রকার বিনা প্রমাণেই তাকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি হাসিনা সরকারের ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের’ শিকার।
ঠিক দশ বছর পর, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, একই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী পেয়ে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার করে এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাজসাক্ষী হিসাবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের হয় ৫ বছরের সাজা।
যে আদালতকে হাসিনা বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার বানিয়েছিলেন, সেই আদালতই আজ তাঁর বিরুদ্ধে রায় দিল। জনাব চৌধুরীর কথা শব্দে শব্দে সত্য হলো।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ যেন চক্রাকারের ইতিহাস।সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী হাসিনাকে যে ‘বিচারিক হত্যার’ জন্য দায়ী করেছিলেন, আজ ইতিহাস তাঁর কথাই স্মরণ করছে। “একদিন হাসিনারও বিচার হবে”— এই বাক্য আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে গভীর প্রতিধ্বনি তুলেছে।
