দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
কক্সবাজারের শামলাপুর চেকপোস্টে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত। মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান গাড়ি থেকে নেমেছেন। হাত তুলে বলছেন, “আমি সেনাবাহিনীর অফিসার।” কিন্তু পরক্ষণেই গুলি। লিয়াকত আলীর বন্দুক থেকে ছোঁড়া গুলি সিনহার বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। পড়ে যান তিনি রক্তে ভিজে যায় মাটি। সেই রাতের পর পুরো দেশ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠেছিল। আর আজ, পাঁচ বছর পর, সেই রক্তের দাগ আরও গাঢ় হয়ে উঠল।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল। আইনের পোশাকের আড়ালে লুকানো খুনিদের ফাঁসিতে ঝোলাতে আর একটি ধাপ আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ছয়জনের যাবজ্জীবনও বহাল রাখা হয়েছে। নন্দদুলাল রক্ষিত, রুবেল শর্মা, সাগর দেব, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও নিজাম উদ্দিন এরা কেউই বাঁচতে পারলেন না। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও দিতে হবে।
এই রায়ের পর আসামিদের হাতে সময় মাত্র ৩০ দিন। এর মধ্যে আপিল না করলে ফাঁসির দড়ির পথে আর কোনো বাঁধা থাকবে না।
২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা জজ আদালত প্রথম এই রায় দিয়েছিলেন। তারপর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। চলতি বছরের ২ জুন হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। আজ সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হলো। ২০২০ সালের ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস মামলা করেন। র্যাবের তদন্তে বেরিয়ে আসে, এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। প্রদীপের নির্দেশে লিয়াকত গুলি করে। সাক্ষীদের হুমকি, প্রমাণ লোপাট সহ কোনো চেষ্টারই কমতি ছিল না।

সিনহা প্রামাণ্যচিত্র তৈরী করতে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ডের ছাত্রী শিপ্রা। তার চোখের সামনে ভাইয়ের মতো মানুষটাকে গুলি করে মারা হলো। সেই কান্না আজও থামেনি।
আজকের রায়ে সেই কান্নার একটা জবাব দেওয়া হলো সাথে আইনের শাষন প্রত্যাশী জনগণের মনে আশার আলোও জ্বলেছে। প্রদীপ-লিয়াকতের ফাঁসি বহাল। কিন্তু সিনহা আর ফিরবে না। শুধু একটা আশ্বাস রইল, যারা গুলি করেছে, তারা আর কারও বুকে গুলি চালাতে পারবে না।
