দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশে কিশোর (টিনএজ) গ্যাং–এর অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সমাজে উদ্বেগ বাড়ছে। এই গ্যাংগুলো সাধারণত ১৪–১৯ বছর বয়সের কিশোরদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে এবং তারা চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অবৈধ অস্ত্র বহন, মাদক, ইভ টিজিং ও সহিংস ঘটনায় জড়াচ্ছে, যা সাম্প্রতিক দিনে বিভিন্ন সংবাদ মাদ্ধমে ব্যাপকভাবে উঠে আসছে।
গত বছর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় দুই কিশোর গ্যাং–এর মধ্যে মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
অন্যান্য অপরাধেও কিশোর গ্যাংয়ের প্রবৃত্তি লক্ষ করা যাচ্ছে; ঢাকাসহ গ্রামীণ শহরগুলোতে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি, দোকানদারদের ভয়ভীতি দেখানো ও নারীদের হয়রানি করা নিত্য দিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তাদের সক্রিয়তার হাইপস্পট হিসেবে দেখা যায় ঢাকার পশ্চিমাঞ্চল, যেমনঃ মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, হাজরীবাগ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার মত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। অন্যান্য জেলা শহর যেমন কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, গাজীপুর ও চট্টগ্রামেও তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রভাবশালী স্থানীয় বড় ভাইদের আশ্রয়–প্রশ্রয় পেয়ে এই গ্যাংগুলো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচিত ও এলাকার মাদক ও অবৈধ ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তারে এই কিশোরদের ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ আছে। এমন অনেক সদস্যই রাজনৈতিক বা সামাজিক বড় বড় ব্যক্তিদের প্রচ্ছন্ন আশ্রয়ে থেকে শক্তি ও নিরাপত্তা পায় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন অভিযানে কিশোর গ্যাংের সদস্যদের গ্রেফতার করছে এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। ঢাকা ও কুমিল্লায় যৌথ অভিযান–এ গ্যাং মেম্বারসহ বন্দুক, ইয়াবা ও ধারালো অস্ত্রসহ অন্যান্য জিনিস জব্দ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কিশোর গ্যাং–এর নিয়ন্ত্রণের জন্য সমন্বিত সমাজিক পন্থা, শিক্ষা ও পরিবার-ভিত্তিক নজরদারি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, তরুণদের জন্য ইতিবাচক উদ্দেশ্যসমূহ সৃষ্টি এবং আইনি কার্যক্রমে দ্রুত ভূমিকা নেওয়া অপরিহার্য। তারাপ্রশাসনের পাশাপাশি পাড়া–প্রতিবেশী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করছেন যাতে কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে সরানো যায়।
