দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করেছে ইরান। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তেহরান। ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের এক সাম্প্রতিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আল জাজিরা এবং রয়টার্স এর আঞ্চলিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক সম্মান এবং অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশটির পক্ষ থেকে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতিও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম এর সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ এর মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে তেহরান।
এছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আজারবাইজান হয়ে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংলাপভিত্তিক কূটনীতির ওপর বাংলাদেশের জোর দেওয়ার বিষয়টিও প্রশংসিত হয়েছে। আনাদুলু এজেন্সী এবং AP এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের অবস্থান আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহতের খবরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো সমবেদনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ তুলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছে ইরান দূতাবাস। ভুল বা একপাক্ষিক তথ্য দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এই কৌশল একদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষা করছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
