দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বছরের অন্যতম বিরল মহাজাগতিক ঘটনা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ আজ বুধবার, ১২ আগস্ট পৃথিবীর আকাশে দেখা যাচ্ছে। চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যের পুরো চাকতি ঢেকে দিলে যে বিরল দৃশ্য তৈরি হয়, সেটিই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এবারের গ্রহণের পূর্ণগ্রাসের পথ উত্তর রাশিয়ার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন এবং পর্তুগালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট অংশ দিয়ে অতিক্রম করবে।
প্রায় একশ কোটি মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গ্রহণটির কোনো না কোনো পর্যায় দেখতে পারবেন। তবে পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ পাবেন মাত্র প্রায় দেড় কোটি মানুষ। পূর্ণগ্রাসের সরু পথে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে। তখন কয়েক মুহূর্তের জন্য দিনের আলো অনেকটাই ম্লান হয়ে আসবে এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দেখা যেতে পারে।
আইসল্যান্ড ও স্পেনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য
এবারের গ্রহণের সবচেয়ে দর্শনীয় পর্যায়গুলোর একটি হবে আইসল্যান্ডে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটের দিকে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। কোনো কোনো স্থানে দুই মিনিটেরও বেশি সময় সূর্য পুরোপুরি আড়াল হয়ে থাকতে পারে।

এরপর চাঁদের ছায়া উত্তর আটলান্টিক পেরিয়ে স্পেনে পৌঁছাবে। উত্তর স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। উত্তর-পশ্চিম স্পেনের কিছু শহর ও অঞ্চলে সূর্য যখন দিগন্তের খুব কাছে থাকবে, তখনই পূর্ণগ্রাসের দৃশ্য তৈরি হবে। এ কারণে সমুদ্র বা উন্মুক্ত পশ্চিম দিগন্ত থেকে দৃশ্যটি দেখার জন্য ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্পেনের বাইরে ইউরোপের বেশির ভাগ অঞ্চলে পূর্ণগ্রাস নয়, আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকায় সূর্যের একটি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু এলাকাতেও আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান হবে।
বাংলাদেশে দেখা যাবে না
বাংলাদেশের আকাশে এবারের সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। কারণ গ্রহণের সময় বাংলাদেশে সূর্য দিগন্তের ওপরে থাকবে না। ফলে দেশের কোনো অঞ্চল থেকেই সরাসরি এই গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে না।
একই কারণে ভারত থেকেও গ্রহণটি দেখা যাবে না। গ্রহণের যে সময়টি দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে মিলে যায়, তখন এ অঞ্চলে রাত থাকবে। তাই বাংলাদেশ বা ভারতের আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলেও আকাশে গ্রহণের দৃশ্য দেখা সম্ভব নয়।
তবে যারা এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা সরাসরি দেখতে চান, তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থার সরাসরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে পারবেন। মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো গ্রহণের গতিপথ, ছায়ার অগ্রগতি এবং সূর্যের বায়ুমণ্ডল নিয়ে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণও চালাবে।
পূর্ণগ্রাস আর বলয়গ্রাস এক নয়
সূর্যগ্রহণের ধরন নির্ভর করে পৃথিবী ও চাঁদের পারস্পরিক অবস্থান এবং চাঁদের আপাত আকারের ওপর। চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছে থাকলে আকাশে তাকে বড় দেখায় এবং সূর্যের চাকতি পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে। তখন সৃষ্টি হয় পূর্ণগ্রাস।
অন্যদিকে চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকে, তখন তার আপাত আকার ছোট দেখায়। সে অবস্থায় চাঁদ সূর্যের কেন্দ্র ঢেকে ফেললেও চারপাশের সূর্যালোক দৃশ্যমান থাকে। তখন তৈরি হয় উজ্জ্বল আলোর বলয়, যাকে বলয়গ্রাস বা অগ্নিবলয় গ্রহণ বলা হয়।
চোখের সুরক্ষা জরুরি
সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। সাধারণ সানগ্লাস, ক্যামেরার সাধারণ ফিল্টার কিংবা খালি চোখ ব্যবহার করে সূর্য দেখা উচিত নয়। গ্রহণের আংশিক পর্যায়ে অবশ্যই অনুমোদিত সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা বা উপযুক্ত সৌর ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।
পূর্ণগ্রাসের খুব স্বল্প সময়ের জন্য সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি পুরোপুরি ঢাকা পড়লে পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও পূর্ণগ্রাস শেষ হওয়ার আগেই আবার চোখে সুরক্ষা ব্যবহার করতে হবে।
এবারের গ্রহণকে ঘিরে আইসল্যান্ড ও স্পেনে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্পেনে লাখো দর্শনার্থী গ্রহণের পথের বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। আইসল্যান্ডেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক পৌঁছেছেন।
এই গ্রহণের পরও মহাজাগতিক প্রদর্শনী থেমে থাকবে না। ২০২৭ সালের ২ আগস্ট দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে আরেকটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি দেখা যাবে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ।
