দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্যকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেছেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সেনারা তাদের সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে হোটেল ও বেসামরিক অফিস ভবনে অবস্থান নিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গালফ অঞ্চলের হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য সামরিক সদস্যদের বুকিং না দিতে, কারণ এতে সাধারণ অতিথিদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক ঘাঁটি থেকে সরে এসে বেসামরিক স্থাপনায় অবস্থান নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বা জিসিসি দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বাধীনভাবে ইরানের দাবির সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন কেবল সামরিক নয়, বরং তথ্যযুদ্ধ ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির পর্যায়েও পৌঁছেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও বেসামরিক অবকাঠামো ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় আঞ্চলিক দেশগুলোও নতুন কৌশলগত চাপে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক শিপিং রুট এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: Al Jazeera, Türkiye Today
