দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলন ভারতের নতুন প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর মতে, বাংলাদেশে শুরু হওয়া তরুণদের আন্দোলন প্রতিবেশী দেশটির শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে নতুনভাবে সংগঠিত হতে উৎসাহিত করেছে।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের তরুণদের যৌথভাবে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভিডিও বার্তায় নেহা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে তাঁরা অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন এবং তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। বাংলাদেশের তরুণেরা যেভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠিত হয়েছেন, তা ভারতের শিক্ষার্থীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে শুভেচ্ছা জানিয়ে নেহা তাঁদের প্রতি বিপ্লবী অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যে নতুন প্রজন্মের আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা বাংলাদেশে হয়েছিল। এ জন্য বাংলাদেশের তরুণদের অভিনন্দন জানান তিনি।
নেহা বরা বলেন, ভারতের তরুণেরাও গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার মধ্যে মিল রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণেরা একসঙ্গে কাজ করে একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া এবং আরও সুন্দর বিশ্ব গড়ে তুলতে পারবেন।
তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার রক্ষা এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে একে অপরের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনটি বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিভিন্ন তরুণ ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি আলোচনায় এসেছে। এসব আন্দোলনে নেহা বরাকেও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। ওই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে তরুণদের অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয় হয়েছে।
তবে নেহা বোরার বক্তব্যটি দুই দেশের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি বা যৌথ কর্মসূচি ঘোষণার বিষয় নয়। এটি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে দেওয়া তাঁর সংহতি ও শুভেচ্ছাবার্তা। ভবিষ্যতে দুই দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে এ ধরনের সংহতি বাস্তব সহযোগিতায় রূপ নেয় কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর উদ্যোগের ওপর।
