দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
রাজধানীর ভাটারা থেকে সাভারের হেমায়েতপুর পর্যন্ত নতুন মেট্রোরেল সংযোগ স্থাপনে মাস র্যাপিড ট্রানজিট লাইন ৫ এর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুট নির্মাণ ১০টি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে ভূগর্ভস্থ ও এলিভেটেড উভয় ধরনের অবকাঠামো থাকবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পুরো রুটটি ২০৩০ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ট্র্যাক ও স্টেশন নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
‘নর্দার্ন রুট’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি ঢাকার প্রথম পূর্ব পশ্চিমমুখী মেট্রোরেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে, যার মধ্যে ৯টি হবে ভূগর্ভস্থ। গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর ১, মিরপুর ১০, মিরপুর ১৪, কচুখেত, বনানী, গুলশান ২ এবং নতুনবাজারে ভূগর্ভস্থ স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে হেমায়েতপুর, বালিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় থাকবে এলিভেটেড স্টেশন।
এই রুট চালু হলে ভাটারা থেকে হেমায়েতপুর যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩২ মিনিট, যেখানে বর্তমানে যানজটের কারণে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। প্রতিটি বৈদ্যুতিক ট্রেন একসঙ্গে ৩,০৮৮ জন যাত্রী বহন করতে পারবে এবং প্রতি ঘণ্টায় উভয়মুখী মোট ৫৩,২০০ যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১,২৩৮.৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৯,১১৭.০৫ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশন এজেন্সি এবং বাকি অর্থ বহন করছে সরকার।
প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্মাণকাজে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এলিভেটেড অংশে শব্দ ও কম্পন কমাতে কন্টিনিউয়াস ওয়েল্ডেড রেল ব্যবহার এবং সাউন্ড ব্যারিয়ার স্থাপন করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পূর্ব পশ্চিম সংযোগ চালু হলে ঢাকার যানজট নিরসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সীমা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
